দেখে নিন জাতীয় এসএমই পণ্য মেলায় সেরা উদ্যোক্তা সেরা পণ্য

0
587

নবমবারের মতো শুরু হয়েছে জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেলা চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলায় স্টল দিয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। দেশে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তা ও পণ্য সম্পর্কে  জেনে নিন।

১. জেরীস সিগনেচার। স্টল নম্বর A-26

সোনা আর রুপার বাইরে নানা ধরণের হাতে গড়া গহনা এখন খুব জনপ্রিয়। সাধ্যের মধ্যে এখন এসব গহনা কিনছেন গহনাপ্রেমি নারীরা। পুরনো ধারনা থেকে বের হয়েছেন অনেক আগেই। এখন আধুনিক সময় চলছে হাতে গড়া গহনার। সব স্তরের মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে এসব গহনা। অনেকেই এসব গহনা বাজারে এনে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এবারের এসএমই মেলায় এমনই এক উদ্যোক্তা হাতে গড়া গহনা নিয়ে এসএমই পণ্য মেলায় হাজির হয়েছেন। উদ্যোক্তা ইসমত জেরিন কম্পিউটর ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকুরি শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেখান থেকে ইস্তফা দিয়ে হাতে গড়া নকশাদার গহনা বানানো শুরু করেন। এরপর সেসব গহনা নিয়ে বিভিন্ন মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করে প্রসংশিত হন। জেরীস সিগনেচারে নানা ম্যাটেরিয়ালে তৈরি বৈচিত্রময় গহনা পাওয়া যাচ্ছে। স্টল নম্বর A-26।   

২. দয়ীতা। স্টল নম্বর A-25

গহনার ক্ষেত্রে ট্রেডিশনকে গুরুত্ব দিয়ে নকশাদার গহনা তৈরি করে দয়ীতা। তাদের একটি বড় ক্ষেত্র স্থানীয় ও আদিবাসী ঢং-এর গহনা। সাইদা সুলতানা মিলি দয়ীতার ফাউন্ডার ও সিইও। ‘ছোটবেলা থেকে আঁকতে ভালোবাসতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আঁকাআঁকি বেড়ে যায়। পরে নতুন কিছু করার আগ্রহ ও ইচ্ছা থেকে শুরু করেন টিপ নিয়ে কাজ করা। সাইদা সুলতানা মিলি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একসময় শুধু কিছুসংখ্যক মানুষের কাছে টিপের চাহিদা ছিল। এখন ফ্যাশন-সচেতন প্রায় সবার কাছেই টিপের আলাদা কদর রয়েছে। আমি মনে করি, বাঙালি সাজে টিপ অপরিহার্য। শাড়ির সঙ্গে টিপ না পরলে সাজে পূর্ণতা আসে না। এখন অনেকে সব ধরনের আউটফিটের সঙ্গেই এটি পরছেন। দয়ীতার সব টিপই হাতে বানানো। খুব যত্ন নিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়। যে জন্য দয়ীতার টিপে রয়েছে স্বকীয়তা। ডিজাইনেও রয়েছে বৈচিত্র্য।’ সেই থেকে শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গহনা আর টিপে এখন দায়ীতা পরিচিত ব্র্যান্ড। এসএমই মেলায় স্টল নম্বর স্টল নম্বর A-25। 

৩. সেরা বাংলা ৬৪। স্টল নম্বর E-291

“সেরা বাংলার সেরা পণ্য” স্লোগান নিয়ে সেরা বাংলা ৬৪ বাংলাদেশের প্রথম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে থাকা সুজলা সুফলা পণ্য গুলো এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। ১ জুলাই ২০২০ থেকে যাত্রাশুরু করে সুনামের সঙ্গে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে সেরা বাংলা ৬৪। যারা গ্রাম বাংলা থেকে সংগ্রহ করা খাদ্যপণ্য, তেল-মসলা নিজের রান্নাঘরে পেতে চান, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বলে জানান সেরা বাংলা ৬৪ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তৈহিদ হাসান। এছাড়া পাবনা থেকে আসা লুঙ্গি, দেশের বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত পণ্য যেমন মধু, ঘি, লাল চাল, চিনি, সুগন্ধী চাল, আটা-ময়দা, সেরা বাংলার স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এসএমই পণ্য মেলায় স্টল নম্বর E-291। 

৪. তুলিকা। স্টল নম্বর A-155

এসএমই মেলায় তুলিকার স্টলে গিয়ে দেখা গেল, পাটের জাহাজ বাধা রশি কাঠের পায়ায় গোল করে পেঁচিয়ে দৃষ্টিনন্দন ডাইনিং টেবিল তৈরি করেছেন তুলিকার প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত জাহান চৌধুরী। টেবলের কাচের নিচে আবার রঙ তুলি দিয়ে কালারফুল আর্ট করেছেন। খাবারের সঙ্গে এই টেবিল আনন্দও যোগাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মূলত পাটপণ্য রপ্তানী করেন তিনি। পাটের পণ্য মানেই বস্তা, এই ধারণা থেকে তার তৈরি পণ্যগুলো বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। নতুন ডিজাইন ও রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরিই লক্ষ্য তাঁর। তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের পাটপণ্য তৈরি ও কারখানা স্থাপনে সাহায্য করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা। মেলায় তুলিকার স্টল নম্বর A-155

৫. বাঙালি। স্টল নম্বর A-108 

শতভাগ বাঙালি পোষাক নিয়ে কাজ করেন বাঙালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উর্মি রহমান। মেলায় দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা অঞ্চল থেকে তিনি তাঁতিদের কাছ থেকে শাড়ি-জামা, চাদর সংগ্রহ করেন। একই সাথে নিজেরা ডিজাইন করে দেশিও কাঁচামাল দিয়ে তৈরি করেন পোষাক। এছাড়া তিনি দেশি উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করেন চুড়ি ও গহনা। যেগুলোতে থাকে স্থানীয় কারিগরদের স্থানীয় ভাব-ধরণ বা ছাপ থাকে। দেশিও উৎসবের সাজ নিতে বাঙালির পণ্য ব্যবহার করতে যেতে হবে এসএমই মেলার বাঙালি স্টলে। মেলায় বাঙালির স্টল নম্বর A-108।

৬. এফ এম প্লাস্টিক

এফএম প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশে ডিসপোজেবল প্লাস্টিকের চশমা, কাপ, চামচ, পাত্র, বিস্কুট ট্রে, খাবারের ট্রে, ব্লিস্টার প্যাকেজিং ইত্যাদির শীর্ষস্থানীয় প্রস্তুতকারক। এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গাজী তৌহিদুর রহমান। বাংলাদেশে বিস্কুট প্যাকিংয়ে প্লাস্টিকের ট্রে ব্যবহার জনপ্রিয় করে তুলেছেন তিনি। পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করে কোম্পানিটি নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনছে। এটি দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোতে প্যাকেজিংয়ের প্লাস্টিকের পণ্য সরবরাহ করে।

৬. গুটিপা। C-172

চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে তাসলিমা মিজি প্রতিষ্ঠা করেন লেদার ব্যাগ অ্যান্ড লেদার ফুটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘গুটিপা’। মূলত লেদার ও আর্টিফিশিয়াল লেদার নিয়ে কাজ করে গুটিপা। পণ্য বানিয়ে ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই গুটিপার লক্ষ্য। এসএমই মেলায় লেদার পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে গুটিপা। লেদারের সোর্স লোকাল ট্যানারি। ট্যানারিশিল্পে মূলত পুরুষরাই জড়িত। গুটি কয়েক নারী থাকলেও তেমন সক্রিয় নন। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তাসলিমা মিজি। লেদারের পণ্য সংগ্রহ করতে চলে আসুন এসএমই মেলার স্টল নম্বর C-172 এ।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশে কোনো ফি লাগবে না।