দেশের বৃহত্তম ছাদ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূচনা

0
490
দেশের বৃহত্তম ছাদ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূচনা
দেশের বৃহত্তম ছাদ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূচনা

কোরিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান দেশের বৃহত্তম ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই ছাদ সৌরবিদ্যুৎ ৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন করবে। চট্টগ্রামের কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) এ প্রকল্পটি শুরু হবে।

এ প্রকল্পটি মোট ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে ৩ ধাপে বানানো হবে। ইতিমধ্যে এর প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথম ধাপে, ১৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্থাপিত হয়েছে ১৬ মেগাওয়াট সৌর ফটোভোলটাইক (পিভি) বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গতকালকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এটিই দেশের বৃহত্তম পিভি ব্যবস্থার ছাদ সৌরশক্তির উৎস কেন্দ্র।

দ্বিতীয় ধাপে, ৪.৩ মিলিয়ন ডলায় ব্যয়ে ৪.৩ মেগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। অক্টোবর মাস নাগাদ এ কাজ শেষ হবার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপে, ২০ মেগাওয়াটের অপর একটি প্রকল্প সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন কেইপিজেড কর্তুপক্ষ।

 

বাংলাদেশ বেসরকারি ইপিজেড আইনের অধীনে ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন দেশে বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল স্থাপন করে। অঞ্চলটির প্রচার, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনার স্বার্থে “কোরিয়ান ইপিজেড করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়।

কেইপিজেডে বর্তমানে ৩৪টি বিশ্বমানের কারখানায় ফুটওয়্যার, পোশাক শিল্প এবং টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এখানে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে, অঞ্চলটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে সরবরাহকৃত ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। ক্রমবর্ধমান শিল্প-কারখানার জন্য অঞ্চলটি বিপিডিবি থেকে আরও ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিপিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে কোনো ইপিজেডের প্রবেশের সংবাদ প্রশংসনীয়।

ইপিজেডের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেইপিজেডের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমাদের গ্রিডে যুক্ত হবে এবং আমরা তাদের সাথে হিসাব মিলিয়ে নেব। এইজন্যে ছাদ সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে, ইয়াংওয়ান করপোরেশন উদ্ধৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য বিপিডিবির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

 

বাংলাদেশের শক্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যে সে লক্ষ্যমাত্রায় মাত্র ৩.৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এজন্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাত্রা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

 

তথ্যসূত্র – দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড