ব্যাংক উপযুক্ততার জন্য উদ্যোক্তাদের কী করণীয় আর কী না করণীয়

0
502

ব্যাংক উপযুক্ততার জন্য উদ্যোক্তাদের কী কী করণীয় সেইগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো ঃ

করণীয়-

০১. ব্যবসা শুরুর সাথে সাথেই ব্যাংক হিসাব খুলুন।

০২. আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল আইনগত কাগজ/অনুমোদন/লাইসেন্স যেমন- ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সনদ, ভ্যাট সনদ, পরিবেশ সনদ, আমদানি সনদ, রপ্তানি সনদ সংগ্রহ করুন।

০৩. আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, কানুন, বিধি পড়ুন। আপনি আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারেন তবে প্রযোজ্য আইনের বিষয়ে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। কোন আইন ভঙ্গ করে “আমি জানতাম না” বলে পার পাওয়া যাবে না।

০৪. যথাসম্ভব ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুন।

০৫. হিসাবরক্ষক নিয়োগ দিন- যদিও এটিকে ব্যয়সাপেক্ষ মনে হতে পারে, তবে এটি কাজে আসবে।

০৬. একদম শুরু থেকেই হিসাবের বইসমূহে হিসাব লিপিবদ্ধ করুন।

০৭. ব্যবসা শুরুর আগে ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করুন। বাহির থেকে অনেক ব্যবসাকেই আকর্ষণীয় মনে হয়। তবে জানেন কি- তারা অর্থ উপার্জন করছে কিনা। এমনকি তারা অর্থ উপার্জন করলেও- আপনার ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। ব্যবসা শুরুর আগে “খসড়া করুন”।

০৮. অর্থের হিসাব করুন- কী পরিমাণ এবং কেন লাগবে।

০৯. বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে মাসিক/ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধে আপনার সক্ষমতা হিসাব করুন। কারন বাড়তি অর্থের (হয়তো ব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত) সুবিধা পাবার আগেই আপনাকে অর্থ শোধ শুরু করতে হবে।

১০. প্রতিকূলতা পরিকল্পনা করুন- “হলে কী হবে” তা এবং আপনার টিকে থাকার ক্ষমতা বিশ্লেষণ করুন।

১১. ঝরে পড়া অবস্থার পরিকল্পনা করুন- ব্যবসা ব্যর্থ হলে বা কোন দুর্ঘটনা (বন্যা/অগ্নিকা-/আপনার মৃত্যু) ঘটলে- আপনি (বা আপনার উত্তরাধিকারী) ঋণ শোধ করতে সক্ষম হবে কিনা।

১২. ঋণের খরচ হিসাব করুন। লাভের সম্ভাবনা হিসাব করুন। আপনার লাভ ঋণের খরচের চেয়ে কমপক্ষে ৫% বেশি না হলে আপনি ব্যাংকের জন্য আয় করছেন।

১৩. ঋণ সংশ্লিষ্ট সকল খরচ যাচাই করুন। খরচের ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে ঠকাতে পারে। সুদ ছাড়াও বিভিন্ন খরচ থাকে যেমন- প্রক্রিয়াকরণ ফি, বীমা ইত্যাদি। অনেক ব্যাংকে লুকায়িত খরচ থাকতে পারে। যাচাই করুন। প্রশ্ন করুন। নিশ্চিত হোন। আপনার জিজ্ঞাসার সন্তোষজনক উত্তর দিতে দ্বিধা করলে- ঐ ব্যাংক বাদ দিন। ঋণ নেয়া হয়ে গেলে আপনি ধরা। ব্যাংক হলো দোধারি তলোয়ার।

১৪. অনুমোদনপত্র ভালোভাবে পড়ুন। আপনি নিজে না বুঝলে অভিজ্ঞ লোকের সহায়তা নিন। তবে না বুঝে কোন কাগজাদিতে স্বাক্ষর করবেন না।

১৫. অন্যান্য ব্যাংকের সাথে তুলনা করুন। সবকিছু যাচাই করুন। তাদেরকে শুভাকাক্সক্ষী মনে করবেন না। মনে রাখুন, তারা অপর পক্ষ। সে আপনাকে কব্জা করতে পারলে তার কার্যক্ষমতা ভালো হবে বা সে বোনাস/পদোন্নতি পাবে।

১৬. দরকষাকষি করুন। শুধু সুদ নয় অন্যান্য শর্তাবলীর ক্ষেত্রেও। ব্যাংকের প্রস্তাব অনড় কিছু নয়- এটি পরিবর্তনযোগ্য।

না করণীয়-

০১. ঋণ শোধ না করে ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে ধনী হবার চিন্তা করা। কখনই না, এমনকি স্বপ্নেও না।

০২. দালালের আশ্রয়/সহযোগিতা নেয়া। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কথা বলুন। তারা ভালো গ্রাহক খুঁজছে।

০৩. কাগজাদির ক্ষেত্রে চালাকি করা। ব্যাংক কর্মকর্তারা জাল কাগজাদি গ্রহণ করা ও দেখায় অভ্যস্ত। তাই তারা সহজেই জাল কাগজাদি শণাক্ত করে নেবে। জাল কাগজাদি ‘০’র মত। আপনার যত ভালো দিক থাকুক- জাল কাগজাদি আপনার সকল বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে দেবে।

০৪. কোনকিছু লুকানো। আপনার কিছুর কমতি থাকলে- স্বীকার করুন। কিছুর কমতি থাকার কারনে আপনার ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে তবে শূন্য হবে না। তবে কিছু লুকালে এবং তা ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক শণাক্ত হলে- আপনার ঋণ পাওয়ার সুযোগ শূন্য হয়ে যাবে।

০৫. মিথ্যা বলা। মিথ্যা লুকানো কঠিন। আপনি ধরা পরতে পারেন এবং ঋণ পাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।

০৬. তহবিল অন্যদিকে নেয়া। এটি আপনার ব্যবসাকে ধ্বংস করবে।

০৭. প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঋণ নেয়া। অতিরিক্ত অংশ নষ্ট হবে। কিন্তু আপনাকে ঋণের পুরোটা শোধ করতে হবে।

০৮. ব্যাংক থেকে নিয়ে অন্যকে ধার দেয়া।

০৯. ফাঁকা কাগজ/স্ট্যাম্প/চেক ইত্যাদিতে স্বাক্ষর করা।

১০. বিক্রয়কর্মীর প্রেমে পড়া। আবেগপ্রবণ হওয়া। বলি হওয়া।

১১. ব্যাংককে ভয় পাওয়া। সাজসজ্জায় গুলিয়ে যাওয়া। মনে রাখুন এই সাজসজ্জা আপনাকে মোহগ্রস্ত করার জন্য।

১২. ব্যাংকাররা স্যুট-বুট পরিহিত- কারন তাদেরকে দেখাতে হয় যে তারা স্মার্ট। কিন্তু তারা আপনার মত স্মার্ট না। আপনি জীবন থেকে শিখেছেন।

১৩. আপনার ব্যবসা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে চাইলে তাদের কথা শুনুন। কিন্তু তাদের পরামর্শ প্রয়োগ করবেন কিনা- সেটা আপনার ইচ্ছা। মনে রাখুন- আপনার ব্যবসায় আপনি বিশেষজ্ঞ। ব্যাংকারের পরামর্শ বাস্তবিক বা ফলদায়ক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাদ দিতে দ্বিধা করবেন না। ব্যর্থতার দায় তারা নেবে না।

ধন্যবাদ এবং আপনার উদ্যোক্তা জীবনের জন্য শুভকামনা।

শওকত হোসেন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড

(ইংরেজি থেকে অনুবাদ- সৈয়দ নুরউজজামান)