হ্যালোটাস্ক!!

0
523

 

বর্তমানে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হল কর্মঠ ও সৎ গৃহকর্মী পাওয়া। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাসার সব সদস্যই আজকাল উপার্জন

কর্মের সাথে জড়িত। যার ফলে বাসার কাজ ও দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মীর বিকল্প ভাবা খুব কঠিন। এমতাবস্থায়  এই সমস্যার সমাধান নিয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যাবসা শুরু করেন মেহেদী স্মরণ। হ্যালোটাস্ক নামের একটি গৃহকর্মী সেবা প্রদান উদ্যোগ নেন তিনি।

 

ছোটাবেলা থেকেই ছাত্র হিসবে, খুব একটা পড়ুয়া ছাত্র ছিলেন না তিনি। গতানুগতিক পড়াশোনার বাইরে ভিন্ন কিছু করার প্লান ছোটবেলা থেকেই ছিল তার। তাই  ক্লাস নাইন থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিয়ার হিসাবে, পয়সা উপার্জন করতে শুরু করেন তিনি । নিজের উপর বিশ্বাস ছিল তার আর  নতুন কিছু শুরু করার যোগ্যতা আছে , এই আত্মবিশ্বাসে   ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষা যেদিন শেষ হলো,

সেদিনই বাবার কাছে ,  দুই লাখ  টাকা চেয়ে বসলেন। যেহেতু রেজাল্ট ভাল হয়নি, তাই পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স হবে না।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য এই টাকাটা দরকার। এই দুই লাখ টাকা দিলে ভবিষ্যতে আর কখনোই মেহেদী স্মরণের  পড়ালেখার জন্য টাকা দিতে হবে না। তার বাবার এই  প্রোপজালটা পছন্দ হয়েছিল। তার  বাবা টাকা পাঠালেন, ভবিষ্যতে আর কখনোই টাকা না দেয়ার শর্তে।

কিন্তু টাকাটা পাবার পর তিনি আর পড়াশোনা করেন নাই। শুরু করেন নিজের ব্যবসা।

 

তারপরে দুই লাখ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘রোবটডাকো’। তখন মূল আইডিয়াটা ছিল, অন ডিমান্ড ডেলিভারি এর। যে কেউ চাইলেই একটা চিপস এর প্যাকেটও ৩০ মিনিটে ডেলিভারি করে দেয়ার এক জাদুকরী অপারেশনাল মডেল তিনি তখন বানিয়েছিলেন।

 

কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে বেশিদুর এগোতে পারেন নাই। যথাযথ দিকনির্দেশনা অভাবে সেটা বন্ধ করে বড় ভাইয়ের সাথে নিজের পরিকল্পনায় শুরু করেন, গৃহকর্মী সেবা।

 

 ঢাকা শহরের মানুষ গৃহকর্মী নিয়ে যে জিম্মি দশায় আছে, সেটা কিছুটা বুঝলেও এর ভয়াবহতা তারা তখনও বুঝে উঠতে পারেননি।

গত দুই বছরে তারা  কেবল রিসার্চ করেছেন, কিভাবে-কোন মডেলে-কি কি কাজ করলে তারা  সেবাটা সব থেকে ভাল মত দিতে পারবেন।  যার ফলে তাদের  ব্যবসা মূলত শুরুই হয়েছে গতমাস থেকে।

গত দুই বছরে তাদের  গৃহকর্মীর সংখ্যা ছিল ৫০ টি। কিন্তু যখন তারা তিন মাস আগে কাজটা প্রোপারলি শুরু করেন তখন পনের দিনে গৃহকর্মীর সংখ্যা হয়েছে ৫০০। এই মাসের অর্থাৎ জুলাই মাসের  মধ্যে সেটা ১৫০০ ছাড়িয়ে যাবে।

তারা আশা করছেন , লাখের সংখ্যা ছুঁতে  আর  তিন মাসের বেশী সময় লাগবে না।

মেহেদী স্মরনের   ভাষ্য মতে ‘ আপনি যখন কোনো বিজনেস এর চিট কোড পেয়ে যাবেন, বিজনেস স্কেল করা কেবল সময়ের ব্যপার। আমাদের এই চিটকোড খুজে পেতে সময় লেগেছে দুই বছর’।

তিনি আরো বলেন, হ্যালোটাস্ক নিঃসন্দেহে এই বছরের ভেতরেই টক অব দ্য টাউনে পরিণত হবে। গত দুই বছর আরএনডি ফেইজ চলাকালীন সময়েও তাদের  প্রায় ৪০ হাজার সার্ভিস ছিল। এবং  ৪৫ হাজারের কিছু বেশি রেজিঃ গ্রাহক আছে হ্যালোটাস্কের।

ভবিষ্যতে তারা ঢাকার বাইরে এই সার্ভিস শুরু করতে চান। তাদের ধারনা অনুযায়ী  বছর তিনেক সময় লাগবে পুরো বাংলাদেশের গুরুত্বপুর্ণ শহরগুলো কাভার করতে। মেহেদী স্মরন তার এই ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

তার এই  উদ্যম  ও উদ্যোগের জন্য ‘চাকরি খুঁজবো না, চাকরি দেবো’ গ্রুপ থেকে তাকে দেয়া হয় ‘ নবীন উদ্যক্তা স্মারক ২০১৮’

­