নার্সারি করে দারিদ্র্য জয়

0
640

যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের কওসার আলী বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে আবার নার্সারির কাজে হাত দিয়েছেন। ২০ বছর হলো তিনি এ কাজ করছেন। এতেই তিনি দারিদ্র্য জয় করেছেন।

তিনি জানান, সোনার হরিণ ধরার জন্য বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে নার্সারি করে তা ধরতে পেরেছেন। তার নার্সারি থেকে তিনি প্রতি বছর আম, কাঁঠাল, সফেদা, পেয়ারা, মেহগনি প্রভৃতির ৭০ হাজার চারা বিক্রি করেন। সব খরচ বাদে চারাপ্রতি তার লাভ থাকে দুই টাকা। তার সবচেয়ে মানসিক শান্তির বিষয় হলো তিনি একদিন পরের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন, এখন নিজের ফার্মে ৩০-৪০ জনকে কাজ দিতে পেরেছেন। তারা সারা বছর এখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের এ এলাকায় কওসার আলীর মতো দুই শতাধিক নার্সারি আছে। ১৯৮০ সাল থেকে এখানে গাছের চারা উৎপাদন শুরু হয়। এই তিন দশকে এর মালিকদের সচ্ছলতা ফিরেছে।

এ এলাকার বড় নার্সারির মালিক হলেন ঝুমঝুমপুরের আবদুল মালেক। ৬০ বিঘা জমি নিয়ে তার নার্সারি। প্রতিদিন তার নার্সারি থেকে অন্তত ১০ ট্রাক চারা দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। প্রতি ট্রাকে চার হাজার চারা ধরে। বছরে তিনি ৫০ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেন বলে জানান। ৫০ জন শ্রমিকের সারা বছরের কর্মসংস্থান হয়েছে তার ফার্মে।

এলাকার নার্সারি মালিক সজল উদ্দিন, মাসুদ রানা, আবু সাঈদ, রিপন গাজী ও সাইফুল ইসলামসহ অনেকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, তাদের নার্সারিতে আম, জাম, কাঁঠাল, সফেদা, পেয়ারা, মেহগনি, জলপাই, কামরাঙ্গা, দেশীকুল, বাউকুল, আপেলকুল, হরীতকী, বহেড়াসহ প্রভৃতি ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা আছে। তাদের চারাও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

যশোর-নড়াইল সড়কের ঝুমঝুমপুর থেকে হামিদপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বসে চারার হাট। সারা দেশের ক্রেতারা এখানে আসেন গাছের চারা কিনতে। এ হাটের বৈশিষ্ট্য হলো সপ্তাহের নির্ধারিত এক দিন বা দু’দিন এ হাটটি বসে না। আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে একটানা চলে আশ্বিনের শেষ পর্যন্ত।

সড়কের ডানে-বামে যত দূর চোখ যায় তত দূর দেখা যায় চারার ক্ষেত, যা নার্সারি বলে পরিচিত। হরেক রকমের চারায় গড়ে ওঠা এসব নার্সারির নয়নাভিরাম সবুজ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। ওইসব নার্সারি থেকে চারা আসে এ হাটে।

নার্সারি মালিকেরা জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় তাদের এ কাজ চলছে। চারা উৎপাদন মওসুমে তারা অনেক সময় আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। এ সময় ব্যাংক ঋণ পেলে তাদের অনেক উপকার হয়। কিন্তু কল্যাণধর্মী এ খাতে কোনো ব্যাংক থেকে তারা ঋণ পান না। চারা অনেক সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ সময় বন বা কৃষি বিভাগের পরামর্শ থেকেও তারা বঞ্চিত হন। আন্দাজে এবং কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিরও শিকার হন তারা।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাইদুর রশিদ জানান, নার্সারি সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে তাদের করার কিছু নেই। আর্থিক সহযোগিতার জন্য তাদের কোন ফান্ড নেই। তবুও কোনো সমস্যার খবর পেলে তারা অবশ্যই দেখবেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল হক জানান, তার ইউনিয়ন একটা নার্সারি পল্লী। এখানে ব্যাপক হারে নার্সারি হওয়ায় এলাকা প্রায় বেকারমুক্ত। তিনি নার্সারি মালিকদের উৎপাদনে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শাহাদত হোসেন কাবিল যশোর – নয় দিগন্ত, অক্টোবর ১, ২০১২