নতুন ব্যাবসা শুরু (পর্ব-১) : প্রোডাক্ট প্ল্যানিং

0
665

আমি চাচ্ছি একটা মোটামুটি নিয়মিত সিরিজ লিখতে গ্রুপের জন্য যারা ব্যবসা করতে ইচ্ছুক এবং অলরেডি ব্যবসা করেন দু’পক্ষের উপযোগী করেই। প্রথম দিকের পর্ব যারা ব্যবসা শুরু করতে চান তাদের জন্য লেখা। লেখাগুলাও লেখার আগে আমি একটু নিজের পরিচয় দেয়া প্রয়োজন মনে করছি। আমার নাম মাকসুদা আজীজ। আমি এগ্রি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শেরেবাংলা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করেছি। এখন নিজের একটা পেপার ক্রাফটিং’এর ব্যবসা করছি। আমার ব্যবসার বয়স ১ বছর। আমি আমার লেখাপড়া থেকে যা শিখেছি এবং ব্যবসা করতে গিয়ে যা শিখছি লেখাগুলো মূলত সেই অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে লেখা। সবার কাজে আসবে এমন কোন নিশ্চয়তা নাই তবে কারো কারো দারূন কাজে লাগবে এটা বলতে পারি।

যখন মন থেকে ঠিক করবে যে হ্যা আপনি ব্যাবসা শুরু করবেন তখন অনেকগুলা জিনিশ নিজের মাঝে মিলিয়ে নিবেন। তার প্রথম জিনিস হচ্ছে আপনি কতটা ঠান্ডা মস্তিস্কের? ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এই জিনিশের কোনই বিকল্প নাই। প্রতিদিনই একটা খুব খারাপ মুহুর্ত আসতে পারে। আপনি যদি মনে করেণ তারপর কী হবে? তবে ব্যবসা আপনার জন্য না। মনে রাখবেন ব্যবসা হচ্ছে ক্রিকেট ম্যাচের মত কোন ওভার মেইডেন যাবে কোন ওভারে ৬টা ছক্কা মারবেন কাজেই যখন দুর্ধর্ষ বোলারটি আসবে আপনি সবগুলা বল ছাড়বেন কিন্তু ক্রিজ ছাড়া যাবে না। ক্রিজ যদি ছেড়ে যান তার মানে আপনি শুরুতে যে ইনভেস্ট করেছেন সবটাই জলে। কিন্তু দাঁত কামরে পিচে পড়ে থাকলে পরের ওভারে আপনি ছক্কা পিটিয়ে ফেলতেই পারবেন।

এখন আসুন মূল বিষয়ে। সেটি হচ্ছে প্রোডাক্ট প্ল্যানিং। আমি প্রায়ই গ্রুপে দেখি অনেকে অমুকটা বিক্রি করব তমুকটা সাপ্লাই দিবো এমন পোষ্ট দেন। আমি সত্যিই খুব অবাক হই এটা দেখলে যে অলরেডি একটা ওভার স্যাচুরেটেড মার্কেটে আমরা ঢুকতে চাচ্ছি। আমার মনে প্রশ্ন জাগে কেন? তার আগে বলি কেন একটা অলরেডি স্যাচুরেটেড মার্কেটে আপনি ঢুকবেন না। ধরুন একটা গ্লাস, তাতে পুরা টইটুম্বুর করে পানি ভরা আছে। আপনি যদি তাতে আরও পানি ঢালেন তবে হবে কী জানেন? উপরের পানিটা গ্লাসে জায়গা করতে পারবে না সেটা উপচে পড়ে যাবে। এখন ভাবুন বাজারে অলরেডি যথেষ্ট আলুর সাপ্লাইয়ার আছে তাদের স্টাব্লিশড সাপ্লাই চেইন আছে এবং লয়াল কাস্টোমার আছে। তাহলে সবাই কেন আপনার জিনিশ কিনবে? প্রোডাক্ট প্ল্যানের প্রথম কথাই হচ্ছে মার্কেট চেইনে ছিদ্র খুজে বের করা। যেই ছিদ্রে আগে কেউ ব্যবসা করে নাই। যদি সেখানেও ঢুকতে পারেন তবেই শুধু আপনি মার্কেটে টিকতে পারবেন অন্যথায় উপচে পড়েই যাবেন।

মার্কেটে টিকার ভিন্ন কিন্তু খুবই ব্যাবহৃত সফল টেকনিক হচ্ছে প্রোডাক্ট ডিজাইনে খানিকটা চেঞ্জ আনা। ধরুন সবাই তো আলু বিক্রি করছে আপনি বিক্রি করবেন সিদ্ধ আলু। সিদ্ধ আলুর মহিমা শুনতে চান? এক কেজি আলুর দাম ম্যাক্সিমাম ৪০ টাকা হয় অফ পিক সিজনে। কিন্তু ২৫০ গ্রাম ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের না ভাজা প্যাকেটের দাম হচ্ছে ৯৬ টাকা। শুধুমাত্র ভ্যালু এ্যাড করে প্রোডাক্টের দাম কতগুণ বেড়ে গেল হিসাব করুন। এভাবে আপনি শুধু যে ভ্যালু এ্যাড করবেন তাই না আপনি প্রোডাক্টের শেলফ লাইফ বাড়িয়ে দিবেন গাজর ছিল ২০ টাকা কেজি আপনি বানিয়ে ফেললেন গাজরের হালুয়ার বরফি দাম হয়ে গেল এক পিস বরফি ৩০ টাকা যেখানে আসলে ১০ গ্রাম গাজরও নাই।

প্ল্যানিং এর দ্বিতীয় পর্যায় আসে প্রোডাক্ট সম্পর্কে আপনার নলেজ। আপনি যদি আলু নিয়ে ব্যবসা করেণ আপনাকে জানতে হবে আলুর বিষয়ে সমস্ত তথ্য। এটি কিরকম আওবহাওয়ায় ভালো থাকে। কী পরিস্থিতে এটা নষ্ট হওয়া শুরু করে ইত্যাদি বিষয়। বিশেষত কেউ যদি এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টের ব্যাবসা করে তার জন্য এটা জানা পুরাই ফরজ। এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট খুবই পচনশীল। একবার যদি একটা কোনভাবে পচে যায় সে খুব দ্রুত অন্যদের পচিয়ে ফেলে। একটা শিপমেন্ট লস মানে বিশাল লস কাজেই সুরুর আগে খুব ভালোকরে তাকে জানুন এবং এই লসটা থেকে বাচুন।

এখন অনেকেই আমাকে বলে কার কাছে জানব? সত্যি বলি এটা আমার সবচেয়ে অপছন্দের প্রশ্ন। আপনি কেন বসে থাকবেন অন্যে এসে আপনাকে জানাবে? অন্যে যদি জেনেই যায় ব্যবসাটা কি সে আগে করে বসে থাকবে না? তাহলে তো সেই সাইকেলের শুরুতেই উপচে পড়া অবস্থায় চলে গেলেন আপনি। জানাটা আপনাকে নিজেরই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য জানতে আপনার নিজের উদ্যোগ নিতে হবে। বই জোগার করতে হবে, অনলাইনে ঘটতে হবে। এমন না যে একজনই সব জানে। অনেকেই জানে আপনার সেই অনেকের প্রায় সবার কাছ থেকে জ্ঞান আহোরণ করতে হবে এবং সেগুলো টুকে রাখতে হবে। এরপরও ভুল হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন সাফল্যের কোন শর্টকার্ট নাই। প্রচুর পরিশ্রম করুন সাফল্য আপনার হাতে ধরা দিবেই।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আগামীতে অন্য কোন বিষয়ে আলোকপাত করব। আপনাদের কোন বিষয় যোগ করার থাকলে মন্তব্যে লিখতে পারেণ আমি যোগ করে দিবো।

লেখক- Maksuda Aziz