ইবে/আমাজন সহ ইন্টারন্যাশনাল সাইট গুলো থেকে প্রোডাক্ট কেনা

0
670

আপনারা সবাই ই ebay.com / amazon.com এই স্টোরগুলোর সাথে পরিচিত। আপনাদের অসংখ্য প্রশ্ন আছে এখান থেকে কেনার ব্যপারে। আশা করি এই ডক টায় সব উত্তর পেয়ে যাবেন। ব্যপারগুলো আসলে খুব একটা জটিল না। প্রথম কথা হল, কেন কিনবেন ইবে বা আমাজন বা এরকম ইন্টারন্যাশনাল স্টোরগুলো থেকে। এটার উওর টা খুবই সোজা। টাকা বাঁচানোর জন্য। আমি আমার ব্যবসার হিসেব থেকে বলি, তাহলে সহজ হবে বুঝতে। আমার বিজনেস এর একটা আইটেম হল এল ই ডি লাইট লাগানো কলার কুকুর/বিড়ালের জন্য। এটা আমি সবসময় ইবে থেকে কিনি। চায়নার একটা সেলার এর কাছ থেকে। প্রতিটা প্রোডাক্টে আমার খরচ হয় ২ ডলারের মত যেটা হল ১৮০ টাকা। প্রোডাক্ট হয় স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটির। যেহেতু চায়না থেকে কিনছি এবং ওখানে ম্যাটেরিয়াল কস্ট কম, ওরা কম দামে সেল করতে পারে। এই জিনিস বাংলাদেশ এ বানাতে হলে আমার ৩০০-৪০০ টাকা খরচ হত এবং অনেক ঝামেলা দৌড়াদৌড়ির মধ্য দিয়ে যেতে হত। আউটসোর্সিং এর যেই লাভ, এসব সাইট থেকে কেনার ও সেই একই লাভ। সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট আলাপ যেটা সেটা হল কিনবো কিভাবে। আমি ইবে/ আমাজন দুটি নিয়েই আলাপ করছি। ইবে তে প্রায় ২০-২৫ টা দেশের সেলার আছে। যদিও আসলে ভালভাবে চোখে পড়ে চাইনিজ, হংকং, আমেরিকা, ইন্ডিয়া কে কিন্তু আরো অনেক দেশের ই সেলার আছে। ইবে তাদের ওয়েবসাইটে বলে যে তারা ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড সাপোর্ট করে। কথাটা আংশিক সত্য। আসলে ইবে এটা সেলার দের উপর ছেড়ে দেয়। সেলার রা নিজেরাই তাদের পেমেন্ট মেথড ঠিক করে এবং ইবে তে ৯৯% সেলার পেপাল ছাড়া আর কিছুই সাপোর্ট করে না। আপনার যদি পেপাল একাউন্ট থাকে (ভ্যারিফাইড/ আনভ্যারিফাইড) তাহলে আপনি সহজেই ইবে থেকে কিনতে পারবেন। পেপাল দিয়ে ইবে থেকে কেনার আরো সুবিধাও আছে। সেটার নাম ইবে বায়ারস প্রোটেকশন। আপনি যদি প্রোডাক্ট বুঝে না পান এবং কমপ্লেন করেন ৪৫ দিনের মধ্যে তাহলে অধিকাংশ সময়েই সেলার আপনাকে আপনার পুরো টাকা ফেরত দিয়ে দেবে। সো, এটা সিকিউরড। যদিও টাকা ফেরত দেয়া না দেয়া অনেকটাই সেলারের মর্জি কিন্তু সব সেলারই দেয় কারণ কেউ বাজে রিভিউ চায় না। আমি ইবে থেকেই কিনি। আমাজনের ব্যপারে আমার ধারণা একটু কম। আমাযন আবার ইবে থেকে উলটা। এরা ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড সাপোর্ট করে। অনেকেই বলে থাকে আমাজন ইবে থেকে অনেক অরগানাইযড এবং বেটার সার্ভিস দেয়। আমাযন থেকে কেনার জন্য আপনার ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড থাকতে হবে। সেটা payoneer এর ও হতে পারে আবার ডাচ বাংলার ও হতে পারে। এটা আপনার ব্যপার। এখন কিছু কমন প্রশ্নের উওর দেই।

প্রথম প্রশ্নের উওর হল, প্রোডাক্ট যখন আপনি কিনবেন তখন আপনাকে সেলার বলে দেবে কোন শিপিং মেথডে আসছে প্রোডাক্ট। অনেক রকম শিপিং মেথড হয়, ফেমাস গুলো তো আপনি জানেন ই ফেডেক্স, ডিএইচএল কিন্তু এগুলোর খরচ বেশি। কম দামি প্রোডাক্টের জন্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় ইএমএস, চায়না শিপিং, USPS ইত্যাদি। প্রায় সবসময় ই আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন আপনি কোন শিপিং এ আনতে চান। ফেডেক্স, ডিএইচএল ছাড়া বাকিগুলোতে অনেক সময় লাগবে, আবার এই দুটোয় টাকা বেশি লাগবে। যদি আপনার পছন্দের শিপিং মেথড সেলারের লিস্টে না থাকে তাহলে সেলারের সাথে কন্টাক্ট করলেই সে ব্যবস্থা করবে। সেলাররা সবসময়ই অনেক হেল্পফুল হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নের উওর হল, প্রোডাক্ট আসলে ফেডেক্স, ডিএইচএল এ লাগে এক সপ্তাহের মত। বাকি মেথডগুলোয় ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মত লাগে। দেশে হরতাল চললে আরো বেশি লাগে, সব ঠিকঠাক চললে কম লাগে। আমি ১৯ দিনেও পেয়েছি প্রোডাক্ট ইএমএস শিপিং এ আবার ২ মাস পরেও পেয়েছি সেই ইএমএস শিপিং এই। :p তৃতীয় প্রশ্নের উওর হল, জ্বি, প্রোডাক্ট পোস্টম্যান আপনার বাসায় এসে দিয়ে যাবে। যদি ওজন বেশি হয় তাহলে ফোন দিয়ে বলবে নিয়ে আসতে। এবার সমস্যা———————-১- প্রথম সমস্যা হল বাংলাদেশের পোস্ট অফিস। এরা বেশিরভাগ সময়েই আলসে টাইপ এবং নীতি নৈতিকতা কম। আমার প্রায় প্রতি মাসেই এই ঝামেলা ফেস করতে হয়, উদাহরণ দিয়ে বলি। একবার কুকুরের নেকটাই আনালাম। নেকটাই এর দাম ছিল ২ ডলার প্রতি ইউনিট। আমার ট্যাক্স দিতে হল প্রায় সাড়ে তিন ডলার পার ইউনিট। আবার এই একই প্রোডাক্ট একই শিপিং এ পরের মাসে আনালাম, এবার কোন ট্যাক্স ই দিতে হল না। ২- প্রোডাক্ট আসতে অনেক দিন লাগে অনেক সময়ই। এটা বিরক্তিকর। এক মাসের আগে বেশিরভাগ সময়ই আসে না যদিও আসা উচিত। দোষ টা বাংলাদেশ কাস্টোমস আর পিও এর। ৩- কম দামি প্রোডাক্ট অনেকসময়ই মিসিং হয়। দুঃখজনক হলেও, যেসব প্রোডাক্টের দাম কম, ট্যাক্স দিতে হয় না বা একদমই কম দিতে হয়, সেসব প্রোডাক্ট মিস হয় বেশি। দামি প্রোডাক্ট প্রায় কখনোই মিস হয় না। কমদামি প্রোডাক্ট হলে ২০ বা ৩০ টায় ৩-৪ টা বা কখনো তারও বেশি নাই হয়ে যায় এভারেজ এ। আমার মতে যদি আপনার উপায় থাকে তাহলে বাইরে থেকে প্রোডাক্ট সোর্স করা খুবই ভাল উপায়। এতে খরচ বাচে। ভ্যারিয়েশন ও বাড়ে প্রোডাক্টের। আপনার যদি লং টার্ম প্ল্যানিং থাকে তাহলে প্রোডাক্ট আসার এই দেরি হওয়াটা প্ল্যান করে ম্যানেজ করতে পারবেন।