ব্যবসা শুরু করতে চান ? আসুন, দেখে নেই কেমন হতে হবে আপনার পরিভ্রমন

0
503

সর্বপ্রথমে, কেন আপনি ব্যবসা করতে চান ? তার কারনগুলো খুঁজে বের করুন। ব্যবসা করার স্বপক্ষে কমপক্ষে ৫ টি শক্তিশালী যুক্তি দাড় করান।

কি ব্যবসা করবেন ? এখানে ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে ভাবতে হবে। ভেবেচিন্তে আপনার অবস্থান থেকে ২/৩টি আইডিয়া নির্বাচন করুন।

আইডিয়াগুলো নিয়ে এবার একটু খেলা করতে হবে। প্রথমেই আপনি যে আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে চান সেই সেক্টরের কমপক্ষে ৩ জন উদ্যোক্তাকে নির্বাচন করুন। একজনকে বেছে নিন যিনি বেশ প্রতিষ্ঠিত। আরেকজনকে নিন যিনি ৩ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন আরেকজন যিনি বছরখানেক হল শুরু করেছেন।

এই তিনজনের সাথে নানান বিষয়ে সর্ম্পক গড়ে তুলুন। যোগাযোগ বাড়ান। তিনজনের ব্যবসায়িক মডেল, ম্যানেজমেন্ট স্টাইল, মার্কেটিং প্ল্যান ও স্ট্র্যাটেজি, সেলস গ্রোথ, কম্পিটিটর হ্যান্ডেলিং ইত্যাদি বিষয়গুলো নিবিরভাবে পর্যবেক্ষন করুন।

এবার আপনার আইডিয়া নিয়ে তিনজনের সাথে আলাপ করুন। কে কি বলে মন দিয়ে শুনুন। যুক্তি তর্ক করুন। এবার আপনার মত আপনি সিদ্ধান্ত নিন।

আপনি যে আইডিয়া নিয়ে ব্যবসা করতে চান তার সম্ভাব্যতা ও বাজার যাচাই করুন। বাজারের পরিধি নির্ধারণ করুন। টার্গেট কাস্টোমার নির্ধারণ করুন। এবার কাস্টোমারের কাছাকাছি গিয়ে আপনার পণ্য আর পরিসেবা নিয়ে কথা বলুন। মন দিয়ে কাস্টোমারের কথা শুনুন। সম্ভভ হলে ১০০ জনের মধ্যে একটা জরিপ করে সেই অনুযায়ী প্ল্যান করুন।

প্রতিটি আইডিয়ার ক্ষেত্রেই এমনটা করুন। এবার সবগুলো আইডিয়ার মধ্য থেকে যে কোন একটি আইডিয়াকে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে সেটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

আইডিয়া নির্বাচন, প্রতিযোগী বিশ্লেষন এবং বাজার সম্ভাব্যতা ও বাজারের পরিধি যাচাই হয়ে গেল। এবার আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরী করুন। ব্যবসার একটা ডেস্টিনেশন মডেল কল্পনা করুন। ৫ বছর পরে কতটুকু এচীভ করতে চান তা নির্ধারণ করুন। এবং এই ৫ বছরের পরিকল্পনাকে ভেঙে ১ বছর করে নিয়ে কাজ শুরু করুন।

ব্যবসা পরিকল্পনায় ফাইনান্সিয়াল ম্যাটারে যে সব বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দিতে হবে: স্ট্যাবলিষ্টমেন্ট কষ্ট, মার্কেটিং ও ব্যান্ডিং কষ্ট, রানিং ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, ব্যাকআপ মানি সোর্স ইত্যাদি।

স্টার্টআপ হিসেবে শুরুতে প্রচুর পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভাববেন একরকম হবে আরেক রকম। খরচ যা অনুমান করবেন তার থেকে অনেক গুণ বেড়ে যাবে। অতএব শুরুতেই বেশ হিসাব করে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে।

ব্যবস্থাপনায় যে সব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে: দক্ষ কর্মী নির্বাচন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, বিক্রয় ও বিপনন ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

ব্যবসা পরিকল্পনার শুরুতেই জোড় দিন মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং এ। মোট বিনিয়োগের শতকরা ৬০ ভাগ বাজেট বরাদ্দ করেন এই সেক্টরের জন্যে। মার্কেটিং আপনার ব্যবসার ব্লাড সার্কুলেশনের মত। এটি ব্যহত হলে বাকি সব ডিপার্টমেন্ট অকার্জকর হয়ে পড়বে। আর ব্র্যান্ডিং আপনাকে বাজারে টিকে থাকতে খুঁটির মত সহায়তা করবে।

কস্টোমার সার্ভিস সেক্টরটিকে গুরুত্ব দিন সর্বাধিক পরিমানে। কেননা মনে রাখতে হবে যে, কাস্টোমার ব্যবসার জন্যে লক্ষী সরূপ। কাস্টোমারের স্যাটিসফ্যাকশনই আপনাকে ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি এনে দিবে।

ব্যবসার লিগ্যাল ডকুমেন্টেশনের দিকে জোড় দিন। এই সেক্টরে কোন গাফলতি নয়। একটু খরচ করে হলেও ব্যবসা ছোট বড় যেমনই হোক না কেন লিগ্যাল কাগজপত্র শুরুতেই গুছিয়ে নিয়ে শুরু করুন।

আপনার আইডিয়া অনুযায়ী যে পণ্য বা সেবা নিয়ে ব্যবসা করতে চান তা নিয়ে প্রচুর স্ট্যাডি করুন। স্ট্যাডির কোন বিকল্প নেই। কমিউনিকেশণ বাড়ান। নিজেকে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করুন সব জায়গায়।

এই পর্যায়ে এসে নিজের দক্ষতা আর যোগ্যতা যাচাই করুন। যে সব বিষয়ে দূর্বলতা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন গ্রহণ করুন। নিয়মিত পড়ালেখা করুন। প্রচুর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করুন। এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

এখন সময় হয়েছে পথে নামার। আপনার গন্তব্য খুঁজে নিতে আপনি মোটামুটি প্রস্তুত। চলার পথের চড়াই উৎরাই পার হয়েই গন্তব্যে পৌছুতে হবে। তবে ঐসব চরাই উৎরায়ের জন্যে আপনি মোটামুটি একটা ধারনা ও মানসিক প্রস্তুতি আগেই নিয়ে নিয়েছেন। শুরু করে দিন আপনার স্বপ্নযাত্র।

আপনার জন্যে অগ্রীম শুভকামনা আর অভিনন্দন রইল।

__ সাজ্জাত হোসেন।