শহরের মানুষ সময় পাচ্ছে না। এমনই ঝামেলা যে বাজার করাটাও হয়ে উঠছে না। এই সুযোগে সহপাঠীরা মিলে ঘরে ঘরে বাজার পৌঁছানোর একটা প্রতিষ্ঠান করা যায়। আয় যা হবে, তাতে পড়াশোনার খরচ জুগিয়েও বাড়তি কিছু থাকবে। যোগাযোগ বাড়বে, দক্ষতাও। আগামীর জন্য এ এক বড় সঞ্চয়! বিস্তারিত জানাচ্ছেন সিদ্ধার্থ সাই
দিলরুবা মুন হোসেন ঢাকায় পড়তে এসেছেন। খরচ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। মা-বাবা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।
কী করা যায়? ভাবতে বসে হোম ডেলিভারির বুদ্ধিটা খুঁজে পেলেন। বন্ধুদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে কাজটা শুরুও করে দিলেন। প্রতিষ্ঠানের নাম দিলেন ‘টাটকা’। সবাই মিলে একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করে ফেললেন। তিনজন করে দলে ভাগ হয়ে বাড়ি বাড়ি বাজার পৌঁছে দেন। রিকশা বা সাইকেলে তাঁদের চলাচল। হেঁটেও করে কখনো কখনো। ভালো হয় যদি একটি গাড়ি জোগাড় করা যায়। এতে সময় যেমন বাঁচবে, কাঁচামাল থাকবে তাজা। প্রথম পর্যায়ে তাঁরা লাভ কম করছেন; কিন্তু মানসম্পন্ন জিনিসপত্র জোগান দিচ্ছেন। ভোক্তা, উৎপাদক বা কৃষক ও স্বাস্থ্য এসব বিষয় নিয়ে বেশি ভাবছেন তাঁরা। জানালেন টাটকা হোম ডেলিভারির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ দিলরুবা মুন হোসেন।
যেভাবে শুরু করবেন
লোকবল প্রথম কথা। একটা মহল্লায় এই সার্ভিস চালু করতে তিন থেকে চারজন লোকের প্রয়োজন হবে। ভালো হয়, সবাই বন্ধু হলে। সহপাঠীরা মিলেমিশে কিন্তু সহজেই করা যায়। কাজটা করতে হয় সময় মেপে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সকাল ৮টার আগেই। এরপর জানতে হবে ক্রেতার চাহিদা। মহল্লাভেদে ক্রেতাদের নামের তালিকা করে নিতে হবে। নাম, বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকলে কাজটা সহজ হয়। আগের রাতে ফোন করে ক্রেতাদের চাহিদা জেনে নিতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পালা করে দুজন চলে যেতে হবে পাইকারি কাঁচাবাজারে। মালামাল এক জায়গায় জড়ো করতে হবে। নির্দিষ্ট ক্রেতার চাহিদামতো প্যাকেট করে নামের ট্যাগ লাগিয়ে দিতে হবে। তারপর বাড়ি ভাগ করে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পণ্যগুলো পৌঁছে দিতে হবে। প্যাকেটের গায়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম লাগিয়ে দিতে ভুলবেন না।
পুঁজির কথা জানতে চাই
ক্রেতার চাহিদার ওপর পুঁজির পরিমাণ নির্ভর করে। কিছুদিন অল্প পরিসরে কাজটা চালু করলে বোঝা সহজ হবে কত পুঁজি লাগবে। প্রাথমিক অবস্থায় ১০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রথম প্রথম হয়তো যাতায়াতের গাড়ি কেনা সম্ভব হবে না, সে ক্ষেত্রে পরিবহনের খরচ ধরে নিতে হবে।
দক্ষতা
স্কুল, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়ারা এই ব্যবসা খুব সহজেই শুরু করতে পারেন। সে অর্থে তেমন কোনো দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে না, তবে বন্ধু হওয়ার গুণটি থাকতে হবে। তাহলে ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হবে। সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, ক্রেতার বা ভোক্তার প্রাপ্তি যেন নিশ্চিত হয়। আরো খেয়াল রাখতে হবে, পরিবহনের সময় যেন পণ্যের ক্ষতি না হয়।
লেগে থাকুন
ব্যবসা দাঁড় করাতে একটু সময় তো লাগবেই। সে সময়টুকু ধৈর্য ধরতে হবে। আর যেহেতু বন্ধুরা মিলে করছেন, তাই ঝামেলা যা-ই হোক মেটানো কঠিন কিছু নয়। দলনেতা কিন্তু লাগবে, যার কথা মানতে প্রস্তুত থাকবে সবাই। এটা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি।
তবে তা-ই হোক
অনেক ব্যবসা আছে যেগুলো করতে অনেক বিনিয়োগ করতে হয়। আর বেশি বিনিয়োগ করলে লাভ আসতে সময়ও বেশি লাগে। হোম ডেলিভারি ব্যবসা সেদিক থেকে কম ঝুঁকির। কারণ পণ্য পৌঁছে দিলে সেদিনই আপনার বিক্রির টাকা হাতে চলে আসবে। কাজেই প্রথম দিন থেকেই কিন্তু আপনার ব্যবসা শুরু হয়ে গেল।
উদ্যোক্তার কথা
আলিমুজ্জামান [অপারেটিং ম্যানেজার, টাটকা হোম ডেলিভারি]
মানুষকে প্রিজারভেটিভমুক্ত তাজা খাবার দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। প্রতিদিন সকালে ঢাকার আশপাশের ক্ষেত থেকে সবজি কিনে আনি। এসব পণ্য বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে সরবরাহ করি। ২০০৪ সালে চার বন্ধু মিলে শুরু করেছিলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্যই শুরু করা। বর্তমানে আমাদের প্রতিদিন এক হাজার টাকা লাভ থাকে।
