পিভিসি বোর্ডের বাজারে প্রবেশের জন্য শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশে বিনিয়োগ

0
501
পিভিসি বোর্ডের বাজারে প্রবেশের জন্য শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশে বিনিয়োগ
পিভিসি বোর্ডের বাজারে প্রবেশের জন্য শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশে বিনিয়োগ

বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পিভিসি বোর্ডের বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। শ্রীলঙ্কার স্ক্রিন ফিল্ড অ্যাডভারটাইজিং (এসএফএ) নামের একটি কোম্পানি কার্ডবোর্ড উৎপাদনের একটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। নতুন প্রযুক্তির এ বোর্ডগুলো ব্যবহার করলে গ্রাহকদের খরচ আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমে যাবে বলে তারা জানান।

বাংলাদেশে প্রথম কোম্পানি হিসেবে স্ক্রিন ফিল্ড অ্যাডভারটাইজিং (এসএফএ) ঢেউযুক্ত পলিপ্রপিলিন শিট উৎপাদন করবে। যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলিতে সরাসরি ডিজিটাল প্রিন্ট ব্যবহার করা যাবে।

ঢেউযুক্ত পলিপ্রপিলিন শিট পিভিসি বোর্ডের একটি বিকল্প। তবে এর খরচ পিভিসি বোর্ডের তুলনায় প্রায় অর্ধেক এবং এটি পরিবেশ বান্ধব। পিভিসি বোর্ড বিজ্ঞাপন বোর্ড, পার্টিশন, ছাদ এবং অন্যান্য অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রাথমিকভাবে ৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিটি ঢাকার আশুলিয়ায় একটি কারখানা স্থাপন করে। প্রথমদিকে সীমিত উত্পাদনের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। বাংলাদেশের বাজার বোঝার জন্য কোম্পানিটি এক বছরের বেশি সময় ব্যয় করে। তবে বর্তমানে তারা স্থানীয় পিভিসি বাজারের সাথে প্রতিযোগিতার জন্যে প্রস্তুত। তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এসএফএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নলিন্দা জায়ামান্যে জানান, বাণিজ্যিক পরিচালনায় অংশীদার হওয়ার জন্য তারা স্থানীয় কয়েকজন বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা করছেন।

নলিন্দা আরো জানান, বাংলাদেশের তারাই একমাত্র সংস্থা যারা স্বল্প মূল্যের পিভিসি বোর্ড তৈরিতে এই নতুন প্রযুক্তিটি ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিনিয়োগের পেছনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বাজার বোঝা। আমরা এই মার্কেটে একটি বিশাল সুযোগ দেখেছি। তাই আমরা বাণিজ্যিক উত্পাদনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।

এসএফএ বোর্ডের সুবিধা জানতে চাইলে তিনি চারটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। যা তাদের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে।

প্রথমত, এর প্রতিযোগি মূল্য। একটি ৩ মি.মি ঢেউতোলা পিপি বোর্ডের দাম ৩৫০ টাকা। একই পুরুত্ব এবং আকারের একটি পিভিসি বোর্ডের দাম ৬০০ টাকা।

দ্বিতীয়ত, এ বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলিতে সরাসরি স্ক্রিন প্রিন্টিং করা যায় যা স্থানীয় পিভিসি প্রস্তুতকারকদের নেই। স্থানীয় পিভিসি প্রস্তুতকারকরা বিজ্ঞাপন বোর্ডের জন্যে আলাদা স্টিকার বিক্রি করে থাকেন। এই স্টিকারগুলির দাম প্রতি বর্গফুট ২১ টাকা যেখানে সরাসরি স্ক্রিন প্রিন্টের প্রতি বর্গফুট দাম ৭.৫০ টাকা।

তৃতীয়ত, পিপি শীটগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। সুতরাং, এই পণ্যগুলি পরিবেশ বান্ধব।

চতুর্থত, স্ক্রিন প্রিন্টের বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলির লিখার স্থায়িত্ব। পিভিসি বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলি লিখা যেখানে ৩-৪ মাস স্থায়ী থাকে, সেখানে স্ক্রিন প্রিন্টের বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলি প্রায় এক বছর ভালো থাকবে।

 

বর্তমানে পিভিসি বোর্ডের বার্ষিক বাজার প্রায় ৮০০০ কোটি টাকার এবং প্রত্যেক বছর তা ৫-৭% হারে বাড়ছে। স্থানীয় পিভিসি বাজারের আধিপত্য বিস্তার করছে পারটেক্স এবং প্রাণ আরএফএল। বাজারের ৬০ ভাগই তাদের পণ্য। বাকি ৪০ ভাগের ২০ ভাগ আমদানিকৃত পিপি ফাঁকা শিট, এবং বাকি ২০ ভাগ জুড়ে আছেন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

 

তথ্যসূত্র – দ্য বিজনেস স্ট্যাডার্ড