কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প

0
566
কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প
কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্পগুলো।  তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়লেও দাম কমেছে। কিন্তু পলিমার, ইয়ার্ন, ক্রাফট পেপার ও কেমিকেলের মত কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০-৮০ শতাংশ। তাই তৈরি পোশাকের বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহের জন্যে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে গড়ে উঠা এই এক্সেসরিজ শিল্পগুলো লোকসান গুনছে।

করোনার প্রভাব কাটিয়ে গত মার্চ থেকে ভারত ও চীনের শিল্পকারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদন শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। কিন্তু তৈরী পোষাকের দাম কমে যাওয়ায় এসব এক্সেসরিজের ক্রেতা গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম পাচ্ছেন না।

এসএএমএস প্যাকেজিং এর মালিক একেএম মোস্তফা সেলিম বলেন, ‘প্যাকেজিংয়ের জন্য যে কাগজ আগে টনপ্রতি ৮৮০ ডলারে আমদানি করতাম, এখন তার দাম ১৪০০ ডলার। কিন্তু তৈরি পোশাক মালিকরা প্যাকেজিংয়ের দাম বাড়াচ্ছেন না। তাই লোকসান কমাতে বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় কম উৎপাদন করতে হচ্ছে।‘

তিনি আরো জানান, ‘মূলধনও বেশি না থাকায় আগে যেখানে ১০০ টন কাঁচামাল আমদানি করতে পারতাম, এখন পারছি ৫০ টনের মতো। ব্যাংকও আমাদের বাড়তি ঋণ দিচ্ছে না। তাই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধরে রাখতে কোনরকমে কারখানা চালু রাখছি।’

রপ্তানি হওয়া তৈরী পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ ধরণের এক্সেসরিজের যোগান আসে এ খাত থেকে। এগুলোর মধ্য রয়েছে বোতাম, হ্যাঙ্গার, কার্টন, জিপার, পলিব্যাগ, সেলাই সুতা, বিভিন্ন ধরনের লেভেল ও হ্যান্ডটেক। প্রায় ১৮০০ কারখানা এসব উৎপাদন করে, যাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিক প্রায় ৬ লাখ।

 

গতবছর মার্চে করোনা ভাইরাসের জন্যে পোশাক রপ্তানিতে বিপর্যয় নামলে এ খাতের কারখানাগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় পোশাকখাত উৎপাদন ও রপ্তানিতে ফিরে আসলে সচল হয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজও।

কিন্তু গত জানুয়ারি মাস থেকে কাঁচামালের দাম বাড়তে শুরু করে। সেই সাথে ফ্রেইট কস্টও বাড়ে। কিন্তু কাঁচামালের দাম বাড়লেও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা এক্সেসরিজের বাড়তি মূল্য দিচ্ছেন না।

তাছাড়া ভুক্তভুগীরা জানান, ‘করোনার শুরুতে যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল তা আমরা পাই নি। ওখানে বলা হয়েছে এসএমইখাত ও অপ্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকরা ২০ হাজার কোটি টাকা পাবে। ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেনি।’

রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণোদনা, ও কর্পোরেট কর ১২ শতাংশ করার অনুরোধ করেন তারা। এতে তাদের সাময়িক অসুবিধা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বিজিএমইএর বরাত দিয়ে বিজিএপিএমইএ জানায়, ২০২০ সালে পোশাক রপ্তানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের অংশের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের পোশাক শিল্পে যে পরিমাণ এক্সেসরিজ দরকার হয়, তার ৯৫ শতাংশই যোগান দেয় এই খাত, টাকার অংকে যার মূল্য ৭ বিলিয়ন ডলার। পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারলে এটি আরও ১০% শতাংশ বাড়বে।

কাঁচামালের ঊর্ধ্বমূল্যে ক্রমাগত লোকসান হলে এ খাতের অনেক কারখানাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্সেসরিজ ব্যবসার সাথে জড়িতরা জানান, করোনার সময় চীনসহ বিশ্বজুড়ে যখন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল, তখন দেশীয় এ উৎস থেকে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং আইটেমের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পেয়েছে গার্মেন্টস সেক্টর।

ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সংকুচিত হলে বিপুল পরিমাণ এক্সেসরিজের জন্য প্রধান রপ্তানি খাতটিকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে। তাতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি লিড টাইমও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাতে পোশাক রপ্তানির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

 

ছবি ও তথ্যসূত্র – দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড