প্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য ব্যতিক্রমী হস্তশিল্প

0
367

ঘড়িতে সময় প্রায় ১২টা বাজতে চলেছে, দুইজন মনোযোগ দিয়ে কাপড়ে হ্যান্ড পেইন্টিং এর কাজ করে চলেছে। তারা যে বাসায় বসে কাজ করছে সেটি সাবিনা আক্তারের বাসা। তিনি তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং তাদেরকে দিয়ে পণ্য তৈরি করেন, সেগুলো বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা তাদেরকে প্রদান করেন। তিনি একই সাথে শিবপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

গত ৩ মে দুপুরে হাজির হয়েছিলাম তার বাড়িতে। বাড়িটি নরসিংদী জেলার শিবপুর অবস্থিত। বাড়ি না বলে ট্রেনিং সেন্টার বলাই ভালো। কারণ এই বাড়িটিতে ১৩ জন প্রতিবন্ধী মেয়েকে প্রশিক্ষণ ও তাদেরকে দিয়ে পণ্য তৈরি করান তিনি।

সাবিনা আক্তার বলেন, ২০১৮ সালে প্রতিবেশী একজন নারীর সহযোগিতায় কয়েকজন প্রতিবন্ধীদের বাড়িতে তাদের দেখতে যান তিনি। উদ্দেশ্য ছিল তাদের এককালীন সহযোগিতা করার। তাদের করুন অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন তাদের জন্য কিছু করার। প্রবাসী স্বামী সিদ্দিকুর রহমানের সহযোগিতায় শুরু করেন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কার্যক্রম। যুক্ত হন প্রতিবন্ধী স্কুল কার্যক্রমের সঙ্গে। বর্তমানে প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পড়াশুনার পাশাপাশি যাতে করে বিদ্যালয়ের মেয়েরা কাজ করতে পারে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে ২ বছর আগে শুরু করেন ব্যতিক্রমী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অবেহেলিত ১৩ জন মেয়ে এরই মাঝে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজ করছেন।

হ্যান্ড পেইন্টিং এর কাজ করছিলেন তাদের মধ্যে কথা হয় একজনের সঙ্গে। তার নাম সাদিয়া। শিবপুর মডেল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। অবসর সময় কাটে তার এখানে কাজ করে। পাশাপাশি এখানের কাজের ফলে তার বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে, যেটা তার কাজে লাগছে । উচ্চ শিক্ষা নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে চায় সে।
পাশের আরেকটি কক্ষে কাপড়ে ছাপার কাজ করছেন কয়েকজন মেয়ে। এছাড়া দু’জন করছেন কাঠের গহনার কাজ। গহনার কাজ করে একজন সুলতানা। সুলতানার মা জানান, তিনি তার মেয়েকে এখানে নিয়ে আসেন যার ফলে এখন অনেক কিছু করতে পারে আগে সেটা পারতো না।

সাবিনা আক্তার জানান, তিনি এরই মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে প্রয়াস থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি চান প্রতিবন্ধী সমাজের বোঝা না হয়ে তারা সমাজের অংশ হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচুক।