গত ৯ জুলাই ২০২৫, বর্ষার সকালে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী কর্মশালা—“উদ্যোক্তার নেতৃত্ব বিকাশের প্রথম পাঠ”। উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই তিন ঘণ্টার সেশনটি পরিচালনা করেন প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, যুব কার্যক্রম ও ইভেন্টসের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি জনাব মুনির হাসান।
উদ্যোক্তাদের জন্য এই কর্মশালাটি সাজানো হয়েছিল যারা একাই শুরু করেন, পরে দল গড়ে তোলেন, কিন্তু নেতৃত্বের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রায়শ মাইক্রো ম্যানেজার হয়ে পড়েন। তাঁদের জন্য এটা ছিল এক ধরনের “প্রাক-নেতৃত্ব” সেশন, যেখানে নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেয়া নয়, বরং নিজের ও টিমের মধ্যে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া বোঝানো হয়।
কর্মশালাটি ছিল একেবারেই অ্যাক্টিভিটি বেজড। উদ্যোক্তারা সরাসরি কাজের মাধ্যমে শিখেছেন কীভাবে সমস্যা চিনে তা সমাধানে এগিয়ে যেতে হয়, কীভাবে টিমকে বোঝা এবং নেতৃত্ব দেওয়া যায়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে নিজেকে চেনা যায়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নবারুন ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোক্তা মো. শহিদুল ইসলাম রবিন বলেন, “যথারীতি লেট লতিফ হয়ে পৌঁছালেও শুরুতেই পড়লাম এক দারুণ অভিজ্ঞতার মাঝখানে পরিচয়ের ভেতর তৈরি হলো এক নতুন উৎসাহ। সেশনটি ছিল আত্মবিশ্লেষণের সুযোগে ভরপুর। মনে হচ্ছিল, আমি যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি নিজেকে নতুন করে দেখছি। মুনির হাছান স্যারের গল্প বলার অসাধারণ কৌশল বিশেষ করে “১৭টি ঘোড়ার গল্প” আর নাসিরুদ্দিন হোজ্জার সমাধান আমার মনে গেঁথে গেছে। এই দিনটা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, জানা জিনিসও নতুন চোখে দেখা দরকার, আর যা জানতাম না, সেটা যদি কেউ আপন করে শেখায়, সেটাই প্রকৃত পরিবর্তনের শুরু। এই কর্মশালা শুধু শেখার নয়, নিজেকে নতুন করে চেনার একটি বিশেষ দিন ছিল। আমি এখনো পথেই আছি শিখছি, বদলাচ্ছি। আশা করি, একদিন আমিও কাউকে এমন একটি আয়না ধরিয়ে দিতে পারবো যেমন আমার সামনে ধরেছিলেন মুনির স্যার।”

আরেক অংশগ্রহণকারী শাবাব লেদারের উদ্যোক্তা মাকসুদা খাতুন বলেন, “উদ্যোক্তা জীবনের শুরু থেকেই মুনির হাসান স্যারের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তাঁর প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা আমাকে সবসময় বাস্তবমুখী চিন্তা ও কাজের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আজকের আমি যেভাবে কাজ করি, তার প্রতিটি স্তরে স্যারের প্রভাব রয়েছে। এখনো স্যারের কোনো সেশন যদি আমার কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়, তা মিস করি না। গতকালের সেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল সব চিন্তা একভাবে করা যায় না। কখনো বৃত্তের বাইরে, কখনো ভেতরে থেকে, আবার কখনো বাইরের সহায়তায় চিন্তা করতে হয়। এই ভারসাম্যই সফলতার চাবিকাঠি।”
ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোসাম্মাৎ বিউটি বেগম বলেন, “উদ্যোক্তার নেতৃত্ব বিকাশের প্রথম পাঠ” কর্মশালায় অংশ নিয়ে বুঝেছি আমি একজন উদ্যোক্তা হলেও আদর্শ, নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোক্তা হতে এখনো অনেক কিছু শিখতে হবে। মুনির হাসান স্যারের প্রাণবন্ত, বন্ধুসুলভ সঞ্চালনায় সেশনটি ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। অনেক অজানা তথ্য জেনেছি, নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখেছি। পারফর্ম করা তিনজনের মধ্যে একজন হয়ে উপহার হিসেবে স্যারের লেখা “গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং” বইটি পেয়েছি সবাই দারুণ সাপোর্ট করেছেন। ধন্যবাদ মাকসুদা আপাকেও, যাঁর উপস্থিতি আমাকে সাহস দিয়েছে।
ডিভাইন কনসালটেন্সির উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান মিলু বলেন, ‘উদ্যোক্তার নেতৃত্ব বিকাশের প্রথম পাঠ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে কিছু বাস্তব, মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছি। নিয়মিতভাবে নেটওয়ার্কে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে সম্পর্ক গভীর হয় ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়। অফিসের সবার জব ডেস্ক্রিপশন লিখিত না থাকলে কার্যকর ফল আসবে না। গ্রাহক ও টিমের প্রতি আন্তরিক যত্ন ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখে। আর সততা উদ্যোক্তার আসল মূলধন। আপনি যদি সৎ হন, সফলতা অনিবার্য। আর যদি না হন, কোনো কৌশলেই সফল হওয়া সম্ভব নয়।

মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহিম জানান, “উদ্যোক্তার নেতৃত্ব বিকাশের প্রথম পাঠ’ ছিল এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার ভাণ্ডার। মুনির হাসান স্যারের কথা ছিল প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ, হিউমারসমৃদ্ধ এবং হৃদয় ছোঁয়া। পার্সোনাল সোয়াট অ্যানালাইসিস, সম্পর্ক গড়ায় ‘কানেক্টিভিটি ইজ প্রোডাক্টিভিটি’, দিনের শুরুতে নিজেকে জেতানো, উদ্যোক্তার তিন শত্রু—অজ্ঞতা, অহংকার ও অসততা সব মিলিয়ে সেশনটি ছিল চোখ খুলে দেওয়া এক অভিজ্ঞতা। বই পড়ার ওপর স্যারের জোর দেওয়া আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তিন ঘণ্টার এই সেশন যেন ছিল পাতায় পাতায় শিক্ষা আর লাইনে লাইনে আলোয় ভরা এক ছোট বই। এই শেখাগুলো হৃদয়ে গেঁথে রইল।
আয়োজকদের পক্ষে প্রমি নাহিদ জানান, “উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিভিন্ন সেশন, কর্মশালা ও উদ্যোক্তা আড্ডা নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে এতে অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা উপকৃত হচ্ছেন। এ ধরনের কর্মশালা এখন থেকে প্রতিমাসে আয়োজন করা হবে। যারা এই আয়োজন গুলোতে অংশ নিতে চান তারা চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব ফেসবুক গ্রুপে নজর রাখতে পারেন।
সেশনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।
