শহরের আয়োজনে বৈচিত্র্য আনছে নীলাচল

0
839

বাঙালির সংসার মানেই রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন-নানান আয়োজনের সমাহার। আগে এসব আয়োজন মূলত ঘরোয়া পর্যায়ে হতো; পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়ার মুরুব্বিরা মিলে নিজেরাই সব কিছু সামলে নিতেন। বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিন, সুন্নতে খাতনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক উৎসব ছিল সবার অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবনধারা ও আয়োজনের ধরন। ব্যস্ততা বেড়েছে, মানুষের চাহিদাও পাল্টেছে। 

এখন অনুষ্ঠান মানেই নির্দিষ্ট থিম, দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা, পেশাদার কেটারিং, আলোকসজ্জা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, লাইভ মিউজিক কিংবা ডিজে পার্টি—সবকিছুতেই এসেছে পরিকল্পিত আয়োজনের ছাপ। এই চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, যারা পেশাদারভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি সাজিয়ে দেয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এই খাত এখন একটি উদ্যোক্তামূলক শিল্পে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে এখন জেলা শহর, এমনকি উপশহর ও মফস্বলেও দেখা যাচ্ছে ছোট-বড় নানা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম। শুধু পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, কর্পোরেট আয়োজন, কনফারেন্স, শো-রুম উদ্বোধন, ফ্যাশন শো—সব ক্ষেত্রেই তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি আধুনিক বাঙালির জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে এই শিল্প। 

রাজধানীতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের জগতে চমক তৈরি করছে নীলাচল ইভেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিয়ের অনুষ্ঠান, হলুদ সন্ধ্যা, মেহেদি উৎসব, এনগেজমেন্ট, রিসেপশন, জন্মদিন থেকে শুরু করে কর্পোরেট ইভেন্ট আয়োজন করছে। দিচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ও সৃজনশীল সেবা। এই সেবার সঙ্গে ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি ও শর্ট ফিল্মও তৈরির কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন আয়োজনে থিম ভিত্তিক ডেকোরেশন, ঝকঝকে আলোকসজ্জা, ফুল দিয়ে চোখ ধাঁধানো সাজসজ্জা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তকে করে তোলে বিশেষ ও স্মরণীয়।

সৃজনশীল পরিকল্পনা এবং আধুনিক আয়োজনের মাধ্যমে নীলাচল বিশ্বাস করে, একটি অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং একটি গল্প, একটি আবেগ, একেকটি জীবন্ত মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তগুলো নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ঢাকাবাসীর মাঝে ইতোমধ্যে আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছে নীলাচল ইভেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট।  নীলাচল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ফাউন্ডার ও সিইও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র তখন আমার শিক্ষকের বিয়ের আয়োজনে আমাকে অনেকগুলো ফুল দিয়ে বলে এগুলো দিয়ে বিয়ের গাড়ি এবং বাসা সাজিয়ে দিতে বলে তখন আমি সেগুলো দিয়ে সুন্দর করে ডেকোরেশন করি এবং সেগুলো সবাই পছন্দ করে তখন থেকে আমার একটা ইচ্ছা ছিল ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কাজ করবো। 

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে নীলাচল ইভেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট যাত্রা শুরু এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজারের উপর বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করেছি সফলতার সাথে। আমি মনে করি, পরিচয় একদিনের সম্পর্ক আজীবনের। যার ইভেন্ট আয়োজন করি তার সাথে একদিনের পরিচয়টাকে সব সময়ের জন্য সম্পর্ক করে নিতে চাই। যাতে করে তাদের যে-কোনো আয়োজনে নীলাচলের কথা সর্বদা মনে রাখে। আমি যার ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান আয়োজন করছি সেটা আমার জন্য ও আমার টিমের জন্য নিয়মিত কাজ কিন্তু যার ইভেন্ট আয়োজন করছি সেটা তার জীবনের একটা বিশেষ মুহূর্ত যা তার জীবনের জন্য স্মৃতিময় করে তুলবে। সুতরাং আমরা সেইভাবে এটাকে সাজাই। আমি যাদের কাজ করি তাদের পরিবারের সদস্য হয়ে তাদের মতো করে ভেবে কাজটা করি ফলে আমার কাস্টমার বেশিরভাগই রিপিটেড। আমাদের এই পেশায় দক্ষ ম্যানেজমেন্ট কর্মীর অভাব রয়েছে। যারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তারা নীলাচলে ইন্টার্নশিপ করতে পারবে। আমাদের এই ব্যবসায় যদি হল বা কমিউনিটি সেন্টারের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করা যেত তাহলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলো আরোও সুবিধা করতে পারতো।