উদ্যোক্তাদের জন্যে পরার্মশ; নিজেকে একটু নতুন করে গুছিয়ে নেয়া

0
544

মাথায় অনেক আইডিয়া, মনের মধ্যে হাজারো স্বপ্ন। রাতের পর রাত ভেবে ভেবে অস্থির, এবার একটা কিছু করবই। এবার নিজেকে শুধরে নেব। কাজে কর্মে আরো মনোযোগী হব। সাফল্য ধরা দেবেই। কিন্তু পরমূহুর্তেই আবার বিষন্নতা ! কাজকর্ম হচ্ছে হবে করে বা করছি করব করে কিছুই আগাচ্ছে না। একপা যাই তো তিনপা পিছাই। নিজের উপর নিজেই বিরক্ত। মন মেজাজ অস্থির থাকে, কোন কিছুতে মন বসে না। এদিকে মনের মধ্যে স্বপ্নের তাড়না। হঠাৎই ব্যর্থতার ভয় আকড়ে ধরে। অতীতের স্মৃতি গতিহীন করে দিতে চায় সব। কি করব ? কিভাবে করব ? এমনো হাজারো সমস্যা নিয়ে প্রতিনিয়তই চলতে হয় উদ্যোক্তাদের। সারাক্ষণই একটা অর্ন্তদন্দে ভূগার ফলে সাফল্যের গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাশা। পরিত্রানের উপায় কি ? উপায় আছে –

অনুসুরণ এবং নিয়মিত চর্চা করতে পার নিচের টিপসগুলো। একমাস চর্চা করেই দেখ। নিজের ফলাফলে নিজেই বিস্মিত হবে। উত্তরণের পথে যাত্রা শুভহোক।

>> অতীতকে ভুলে যাও। অতীতে কি হয়েছে, কি হতে পারত বা কি হয়নি এইসব নিয়ে একদমই ভেবে সময় নষ্ট করা যাবে না। অতীত থেকে যদি কিছু নেয়ার থাকে তা হল ভুলগুলি থেকে সংশোধনের পথ খুঁজে নেয়া। একবার তা পেয়ে গেলে অতীতের দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। কেননা অতীতের ভাবনা মানুষকে বিষন্ন করে তোলে। আর বিষন্নতা থেকেই পরাজয়ের ভয়ের জন্ম হয়। মানুষ চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায় ফলে বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে অসমর্থ হয়। দিনে দিনে ব্যর্থতা আরো বাড়ে। ধীরে ধীরে জীবন হয়ে উঠে দূর্বিসহ। অতএব, অতীতের চ্যাপ্টার ক্লোজড।

>> জীবনে অনেক কিছু করার স্বপ্ন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার সব কিছু এখনই নয়। আগামী ৫/১০ বছর পরে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও তার একটা রোডম্যাপ তৈরী কর। এবার তার জন্যে কি কি করতে হবে তার একটা তালিকা এবং সেই তালিকাকে ভাগ করে বছর / ৬ মাস / ৩ মাস / ১ মাস এরকম লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন কর। বৃহৎ বটবৃক্ষ হয়ে ডালপালা বিস্তার করতে একটা সময় দরকার। সে সময়টা নিজেকে দিতে হবে। আর এই মহীরুহের সূচনা কিন্তু ছোট্ট একটা বীজ থেকেই হয়।

>> কি করতে পারতাম, পারি বা পারব এই সব ভাবার অবকাশ নেই। এই মূহুর্তে ঠিক কি করা উচিত তা নির্ধারণ কর। এরপর তা কিভাবে করা উচিত তা নির্ধারণ করে কাজে নেমে পড়। যা আগামী কাল করা যায় তা আজকে কর, যা আজকে করা যায় তা এখন কর।

>> ছোট ছোট অর্জনকে প্রাধান্য দাও। একটা বড় কাজকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে নিয়মিত ভাবে করে যাও। এক সময় তা পরিপূর্ণতা পাবে। কাজের প্রেসার না নিয়েও কাজটি সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হবে। কখনই ভুলে গেলে চলবে না যে, ছোট ছোট বালি কনা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মহাদেশ সাগরও অতল।

>> এক সাথে অনেক কাজ বা প্রজেক্ট হাতে না নেয়াই উত্তম। একটা একটা করে করতে পারলে ফলাফল ভাল হবার সম্ভাবনা বেশি। যদি একত্রে অনেক কাজ করেতই হয় তাহলে একটা শিডিউল ফলো করা উচিত। প্রতিদিন প্রতিটা কাজের জন্যে একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে করতে পারলে সপ্তাহ বা মাস শেষে দেখা যাবে যে মোটামুটি বেশ অনেক কাজ এগিয়েছে এবং একসাথে ২/৩ টি প্রজেক্ট চলছে !

>> প্রতিটা অর্জনের জন্যে নিজেকে পুরস্কৃত কর। যেমন, একটা প্রজেক্ট শেষ হয়ে গেলে একদিন বাইরে খেতে গেলে বা কোথাও বেড়াতে গেলে অথবা নিজের জন্যে একটা কিছু কিনলে। এতে করে মন মোটিভেটেড হবে। কাজের অনুকূল প্রভাব ও পরিবেশ মনে বিস্তার করতে। কাজ করতে উৎসাহ বাড়বে। কোন দলগত কাজের ক্ষেত্রেও এটি চর্চা করা যেতে পারে।

>> ব্যর্থতা নিয়ে কোন ভাবনা নয়। কিন্তু ভাবনা তো আসে ! কি করা যাবে ? যাবে, একটা কাগজ কলম নাও, ঘড়িতে দেখে নিজের জন্যে ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ কর। এবার ব্যর্থতার কারন ও প্রতিকার খুঁজে বের কর। এর থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের কর। ১৫ মিনিট শেষ। এনালাইসিস থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বা করণীয় অনুযায়ী কাজ শুরু কর। আর কাগজটি এখন তোমার জন্যে অতীত। তাকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেল।

>> নিয়ম, নিয়ম আর নিয়ম ! নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে গিয়ে চুড়ান্ত সাফল্যকে ধরা যায় না। তাই সব কিছুতে নিয়মাবর্তী হতে শেখ। নিয়ম করে খাওয়া দাওয়া কর। ঘুমাও, আড্ডা দাও, পরিবারকে সময় দাও, গান শোন, বই পড়, সিনেমা দেখতে যাও, প্রেম করো এবং যথারীতি প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন কর। নিয়মিত পরিচর্যায় আজকের অঙ্কুরিত বীজ একদিন সুবিশাল বৃক্ষে পরিনত হবে।

>> ভবিষ্যতের দিকে তাকাও কিন্তু বিচরন করো না। ভবিষ্যতে যা করতে চাও বা হতে চাও তার জন্যে কাজ করতে হবে এখন। তাই বর্তমান কাজ ও অর্জনের দিকে তাকাও। বর্তমানের উপর জোড় দাও সদা বর্তমানেই বিচরন কর। ভবিষ্যত নিয়ে কোন কিছুই ভাবার দরকার নেই। সোলাইমান আঃ এর একটা বাণী আছে, “আগামীকাল কি হবে যেহেতু আমি জানি না সেহেতু আগামী কাল নিয়ে ভাবা নিতান্তই বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়”।

>> নিজের সমালোচনা নিজেই করতে শেখ, প্রতিদিনের কাজের মূল্যায়ন প্রতিদিন কর। কি হল, কি হল না ? কেন হল না ? কি করা উচিত এগুলো প্রতিদিন রাতে শোবার আগে ১০ মিনিট ভেবে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা করে তারপরে ঘুমুতে যাও। নিজের ভুল ত্রুটি নিজে খুঁজে বের করে সমাধানে যত্নবান হও। প্রতিদিনে না পারলে প্রতি সপ্তাহে তাও না পারলে প্রতি মাসে একটি করে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে চেষ্টা কর।

>> সর্বপোরি বিশ্বাস করতে শেখ যে, তুমি পারবে। তোমাকে পারতেই হবে। কেননা যে স্বপ্ন তুমি লালন করছো তা একান্তই তোমার। তুমি ছাড়া আর কেউই তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্যেই তোমার সৃষ্টি। এই কাজের মাধ্যমেই তুমি তোমার চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছুতে পারবে। এবং তোমাকে তা আজ থেকেই শুরু করতে হবে।

লিখেছেন- Sajjat Hossain