বাংলাদেশের ইকমারস এর অবস্থা – সমস্যা

0
507

বাংলাদেশে ই-কমারস অনেক বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে কিছু কারনে। কিন্তু সব ভালোর ই কিছু খারাপ দিক থাকে। মাঝে মাঝ খারাপ দিক গুলা বেশি পরিমানে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশ একটা হুজুগ এর দেশ। যখন কয়েকজন মানুষ একটা ব্যবসা তে লাভবান হয় তখন অন্য সবাই সেটা বুঝুক আর না বুঝুক ঝাপায় পড়ে। উদাহরন স্বরূপ শেয়ার বাজার, এম এল এম ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং আউটসোরসিং আর এখন এটার সাথে যুক্ত হয়েছে ইকমারস। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জাতি এক কথায় যুদ্ধে নেমে পড়েছিলো সেটা অবশ্যি ভালো ছিলো। কিন্তু এখনো সেটা কন্টিনিউ আছে তাও খারাপের ক্ষেত্রে, এক ধরনের ঝাপিইয়ে পড়ার মতই।

বেশির ভাগ ইকমারস মালিকদের মধ্যেই যথেষ্ট জ্ঞান এর অভাব আছে। এর মধ্যে কিছু কারন বের করা গেছেঃ

১. আচার-ব্যবহার এর সমস্যা,

২. যোগাযোগে সমস্যা,

৩. ইগো সমস্যা,

৪. প্রেস্টিজ সমস্যা,

৫. কোয়ালিটি ভেন্ডর বাছাই করনের সমস্যা,

৬. ডেলিভারী সমস্যা

৭. সঠিক সময়ে ডেলিভারী না যাওয়ার সমস্যা

আরো আছে অনেক এই মুহূর্তে মনে পড়তেসে না। আর এগুলা ছিলো শুধুমাত্র মালিক পক্ষের দিক থেকে সমস্যা গুলা। কিন্তু কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট এন্ড এর সমস্যা আরো ভয়াবহ। যেমন নিম্নরূপঃ

১. টাকা নেই,

২. দুদিন পরে নিবো

৩. আমি ঢাকা এর বাইরে

৪. সে দেশ নাই

৫. পণ্য পছন্দ হয় নি

৬. মান ভালো নাহ

৭. ডেলিভারী চার্জ এতো বেশি কেনো?

৮. এতোদিন লাগে কেনো ডেলিভারী দিতে?

৯. পছন্দ হচ্ছে না

১০. আমি এখন নিতে পারবো না

১১. ছবির সাথে মিল নাই।

আরো আছে অনেক এই মুহূর্তে মনে পড়তেসে না। আর এগুলা ছিলো শুধুমাত্র কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট দের দিক থেকে দিক থেকে সমস্যা গুলা। কিন্তু কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট দের এই সমস্যা গুলো আপনি নিজে বিবেচনা করে দেখেন নিজেকে শুধু কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট ভেবে দেখেন একবার, এগুলা আমাদের ও সমস্যা।

গাট বাধা সবাইকে কোয়ালিটি না জেনেই অতি লাভের আশায় কিছু বড়-ছোটো আর নতুন ইকমারস সাইট গুলো ব্যবসা করছে। কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট এর কথা ভাবছে নাহ।

এর চেয়ে বাজে হচ্ছে কাস্টমার সার্ভিস।

উদাহরন-১ = কিছু দিন আগে একটা ইকমারস সাইট এর নামে কমপ্লেইন পেলাম তারা নাকি এক ক্লায়েন্ট কে একটা কথা বলেছে, ক্লায়েন্ট অর্ডার দেয়ার পর তার পারিবারিক সমস্যা এর কারনে দেশের বাড়ি গিয়েছে, ওখানে থাক্তে ফোন দিয়েছে। তো সে বলেছে “আপু আমি ঢাকা তে এসে আপনাকে ফোন দিচ্ছি আমি ওটা নিবো।” রিপ্লাই এ তাকে বলা হলো, “দেখেন ভাইয়া আমাদের তো আসলে অনেক কাজ আছে আপনার একটা অর্ডার নিয়ে বসে থাকলে তো আর আমাদের হবে নাহ তাই না?” এটা কেমন কথা? আমাকে বুঝান এখানে ব্যবসা করতে আসছেন ফাইজলামি নাকি? নিজের দিক দেখলেই হবে? ক্লায়েন্ট মানে কি জানেন?

উদাহরন-২ = এক লোক টিশার্ট এর ব্যবসা করবে, ব্র্যান্ড এর নাম ও সিলেক্ট হয়ে গেছে। কিন্তু সে আসলেই জানে না সে কি করবে? ক্লাসিফাইড সাইট বানাবে বলে এখন টিশার্ট এর ব্রান্ড নিয়ে কাজ করতেসে। আসলে তার ব্যবসা টা কি?

উদাহরন-৩ = আরেকজন টিশার্ট এর ব্যবসা করবে, আমি বললাম কিভাবে শুরু করতে চান। নানা কথা বলার পর বলল, “ভাই অনলাইন এ কি সেল হয়?” আমি বললাম “ভালো জিনিস আনেন হবে নাহ মানে?” সে বলে “আমার পারটনার তো ভয় পায় বিনিয়োগ করতে”। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কতো বিনিয়োগ করবে সে?” বলে “৭০০০ টাকা” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, “মোটমাট কত টাকা?” বলল, “ভাই ১০০ টিশার্ট নিয়ে নামবো, বাজেট ১০,০০০ টাকা ঊর্ধ্বে গেলে ১২০০০ টাকা!” আমি, “মানে কি? বঙ্গ থেকে টিশার্ট কিনবেন নাকি?” সে বলে, “এখন এভাবেই করি, পরে ব্যবসা ভালো হলে বিনিয়োগ বাড়াবো” অবস্থা দেখেন ব্যবসা করবে ডিজিটাল অথচ চিন্তা ধারা এনালগ। ব”ঙ্গ থেকে কেনো টিশার্ট কিনবেন? আমার মাথায় তো ঢুকে নাহ ব্যাপার টা! স্টক এর টিশার্ট হলে আলাদা কথা, কিন্তু শুরুতেই গেলে আপনাকে তো তারা রিজেক্টেড টিশার্ট ধরায় দিবে? তার মানে মার্কেট নষ্ট করতে আস্তেসেন?”

এই হলো অবস্থা। ভাই ও বোনেরা সবসময় এই ব্যবসা এর ক্ষেত্রে নিজের কথা চিন্তা করবেন। আপনি একজন কাস্টমার হিসেবে সেই পণ্যের কি কি গুনাগুন চান, কেমন সার্ভিস চান, কি থাকা চাই, কি দরকার নাই। কেউ এটা ভাবলে খারাপ মানের পণ্য বাজারে দিতে পারবে নাহ বলে আশা করি।

আর ইকমারস উদ্যোক্তাদের এই ছোট্ট মানুষ্টার একটা আবেদন, গাট-বাধা প্রফিট এর আশায় সবাইকে না নিয়ে কোয়ালিটি টিম টাকে স্ট্রং করুন। যেটা বেশি বিক্রি হইসে সেটা বিক্রি করতে থাকা কে হয়তো ব্যবসা বলা যেতে পারে কিন্তু কোয়ালিটি না জেনে সেটা বিক্রি করাটাকে ভালো সার্ভিস বলে না বলে লোক ঠোকানো। আগে নিজেরা ঠিক হই পরে কাস্টোমার রা ও ঠিক হবে।

লিখেছেন- Mahabubur Rahaman