সফল মানুষরা সকাল ৮টার আগেই করে এমন ৫টি কাজ

0
533

আপনি পছন্দ করেন বা না করেন, খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ এবং কাজ, দুইটির জন্যই অনেক উপকারী। সফল বেক্তিদের কথা মতে যারা সকাল বেলাটাকে ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে, তারাই পারে জীবনে সাফল্য আনতে। আপনি যদি সফল মানুষদের জীবনি পড়তে যান, কোথাও এমন পাবেন না যে সফল কোন বেক্তি সকালের সময়টুকু কাজে লাগাতেন না। কয়েকজনের কথা বলি, মার্গারেট থ্যাচার সব সময় ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠতেন, Frank Lloyd উঠতেন ৪টায়, Disney এর CEO Robert Iger উঠতেন ৪:৩০ মিনিটে।
আপনি হয়ত এতসময় আপনার রাত জেগে কাজ করার বিষয়ে একটা অজুহাত তৈরী করে ফেলেছেন যে আপনি রাত্রে কাজ করলেই বেশী করতে পারেন। না, Inc. ম্যাগাজিনের জরিপ মতে যারা সকালে উঠে, তারাই বেশী কর্মক্ষম হয়। আর স্বাস্থ্য উপকারিতার কথাতো বাদই দেওয়া যায় না। আসেন, আমরা এমন ৫টি কাজ সম্পর্কে জানি, যা প্রত্যেক সফল বেক্তি তাদের জীবনে সকাল ৮টার আগেই সেরে ফেলতেন।

১. ব্যায়াম
বেশীর ভাগ মানুষ, যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করে, তারা সকালেই করে। হোক সেটা সকালে একটু হাটা হাটি বা যোগ ব্যায়াম বা জিমে যাওয়া, সকালে করলে আপনার পুরো দিনের কাজে তা শক্তি জোগাবে আর আপনাকে দিবে সব কাজ করবার মানসিকতা। ব্যায়ামের মত কঠিন কাজ করার পর সাধারণ কাগজ চালাচালি করতে আর কিইবা লাগে? হ্যাঁ সব সফল মানুষেরাই সকালে একটু হলেও ব্যায়াম করতেন। তো, শুরু করে দিন! এটি আপনাকে সারা দিন কাজ করার শক্তি যেমন যোগাবে, সব বাধা অতিক্রম করবার অনুপ্রেরণাও দিবে।

২. দিনের ম্যাপ তৈরী করা
আপনার দিনের সব কাজ, সাথে সাথে আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌছার জন্য আজকে কি করবেন, তা সকালেই হিসাব করে ফেলা ভাল। কোন মিটিং এর পর কোন মিটিং, কোথায় কখন যেতে হবে সব কিছু একের পর এক সাজিয়ে নিলে সারাদিনে আর কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। আর হ্যাঁ যখন এই প্লান করবেন, তখন অবশ্যই আপনার মানসিক শান্তির/বিশ্রামের বিষয়টা ভাববেন। প্রত্যেকটা বড় কাজের পর কম পক্ষে ১০ মিনিটের একটা ব্রেক রাখুন। একটু চোখ বন্ধ করে বসে থাকুন, বা একটু গান শুনুন। আর হ্যাঁ junk food বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর কিছু কখন কখন খাবেন, তার প্লানও করে রাখা ভাল।

৩. সকালে স্বাস্থ্যকর একটা নাস্তা করুন
আমাদের একটা প্রচলতি অবস্থা হল সকালে দেরী করে উঠা, আর না খেয়ে বের হয়ে যাওয়া। তারপর শুরু হয় ফাষ্টফুড খাওয়া। কিন্তু এটা ঠিক না। এমন ফাষ্টফুড খাওয়ার কারনে আপনি সব সময়ই অস্বস্তির মধ্যে থাকবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে দিবে শারীরিক প্রশান্তি। আর আপনার স্বাস্থকেও সুস্থ রাখবে।

৪. কল্পনা
পুরো দিনেরর ম্যাপ তৈরী করার সাথে সাথে আপনাকে পুরো দিনটা একটু কল্পনা করে নিতে হবে। চোখ বন্ধ করে কিছু সময় বসে থেকে আপনি যদি আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে পারেন, তাহলে আপনি আপনার লক্ষ্যে অটুট থাকতে সাহস পাবেন। নিজের উপর বিশ্বাস বাড়াতে পারবেন।

৫. আপনার পরিবারের সদস্যদের বলুন যে আপনি তাদের ভালবাসেন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা একটু কেমন কেমন মনে হতে পারে, কিন্তু এটা আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য জরুরী। আপনার একবার ‘ভালবাসি’ বলা যেমন আপনাকে আপনার নিজের কাজের জন্য উজ্জিবীত করবে, তেমনি তাদেরকেও আপনার মন রক্ষা করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। আর এটাতো মানতেই হবে যে সুখি পরিবার পাওয়াটা ভাগ্যের বিষয়। সুখি পরিবার মানে আপনার জীবনের সব থেকে বড় ঝামেলাটা না থাকা। আর সব থেকে বড় ঝামেলা না থাকা মানেই হল আপনার জীবন হবে আরও সুখি।

লেখক- Shafiul Alam Chowdhury